শনিবার, ১৮ Jul ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা বদ্ধ সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় জেলার বেকার যুবকদের স্বপ্ন পূরণ করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে নীলফামারী সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক বেকার যুবক যেমন পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে, তেমনি দেশীয় চাকরি কিংবা উদ্যোক্তা হয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেকেই।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, কেন্দ্রটির শুরুতে ছিল ৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ ট্রেড এবং নবম ও দশম শ্রেণি অধ্যয়নের দুটি ভোকেশনাল ট্রেড। এখন ১৫টি ট্রেডে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এখানে। চালু রয়েছে পাঁচটি ভাষা শিখন কোর্স। ভোকেশনালে ৭টি ট্রেড নিয়ে এখন দেশের দ্বিতীয় অবস্থানে কেন্দ্রটি (বগুড়া টিটিসিতে ১১টি ট্রেড রয়েছে)। সেখানে নারীরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করেছেন নীলফামারী উত্তরা ইপিজেডে। প্রতি ট্রেডে ৪০জন করে কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে এ পর্যন্ত এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮১২জন। ট্রেড ভেদে একমাস থেকে শুরু করে ছয় মাস মেয়াদে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এখানে।
২০১৬ সালে চালু হওয়া এ প্রতিষ্ঠানটি থেকে খবর নিয়ে জানা যায়, ইতোমধ্যে কেন্দ্রটিতে প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে ২৩ জন পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। সম্প্রতি ভাষা প্রশিক্ষণ নিয়ে জাপানে যাওয়ার জন্য ২ নারীসহ ৭ জন নির্বাচিত হয়েছেন। দুবাই যাওয়ার তালিকায় রয়েছেন ২৩ জন, দক্ষিণ কোরিয়ার তালিকায় রয়েছেন ৭ জন।
ভাষা শিখে জাপান যাওয়ার তালিকায় থাকা শহরের ধনীপাড়া এলাকার ঈশিতা বানু পপি বলেন, আমার পক্ষে জাপান যাওয়ার চিন্তা করা ছিল স্বপ্নের মতো। কিন্তু টিটিসিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে সে স্বপ্ন আজ বাস্তবায়নের পথে। সেখানে গিয়ে আমি দেখাতে পারি মেয়েদেরও সক্ষমতা রয়েছে।
জাপানে যাওয়ার জন্য চূড়ান্ত তালিকায় থাকা জেলা শহরের গাছবাড়ি এলাকার গোলাম আযম সাজু বলেন, আমি অনার্স শেষ করে অনেক চেষ্টা করেও সরকারি চাকরী পাইনি। টিটিসিতে ছয় মাসের ভাষা প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মসংস্থানে জাপান যাওয়ার তালিকায় রয়েছি।
জাপানী ভাষা প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রশিক্ষক মাসুদ আলম জানান, জাপানে বাংলাদেশীদের চাকুরীর সুযোগ অনেক। ভাষা না জানায় আমরা সেটা ধরতে পারছি না। নীলফামারী টিটিসিতে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কোর্স চালু হওয়ায় বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরির কারখানা তৈরি হয়েছে টিটিসি। গ্রামের হাটে-বাজারে প্রচারণা চালিয়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বেকারদের আসতে উদ্বুদ্ধ করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি উপজেলা থেকে এক হাজার বেকার যুবককে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলে বিদেশে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেটি বাস্তবায়নে কাজ করছি আমরা।
জেলা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী এস.এম শফিকুল আলম বলেন, অদক্ষ হয়ে দালালের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বেকাররা। টিটিসি একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান। সেখানে প্রশিক্ষণ প্রদান করে দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো হচ্ছে, জেলার জন্য এটি সুখবর। তবে কেন্দ্রটিতে গতি বাড়াতে পূর্ণ জনবলের দাবি জানাচ্ছি।
নগরকন্ঠ.কম/এআর